জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ এর বিষয়ভিত্তিক প্রশ্নপত্রের কাঠামো ও নম্বর বণ্টনের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এই ঘোষণায় গণিত বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং পরীক্ষার্থীদের জন্য স্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
২০২৫ সালের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার মূল কাঠামো
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত এই বৃত্তি পরীক্ষায় মোট ৪টি বিষয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে ১০০ নম্বর করে পরীক্ষা হবে। অন্যদিকে বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে ৫০ নম্বর করে পরীক্ষা নেওয়া হবে। এভাবে সর্বমোট ৪০০ নম্বরে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
প্রতিটি বিষয়ের পরীক্ষার জন্য ৩ ঘন্টা সময় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় প্রদান করা হবে।
গণিত বিষয়ের বিশেষ নম্বর বিন্যাস
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ এ গণিত বিষয়ের প্রশ্নপত্র তিনটি ভিন্ন ধরনের প্রশ্নের সমন্বয়ে গঠিত হবে। এই বিন্যাসটি শিক্ষার্থীদের সার্বিক দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য বিশেষভাবে পরিকল্পিত।
সৃজনশীল প্রশ্নের জন্য ৫০ নম্বর বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই ধরনের প্রশ্নে শিক্ষার্থীদের চিন্তাভাবনা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা পরীক্ষা করা হবে। সংক্ষিপ্ত উত্তরের প্রশ্নে ২০ নম্বর থাকবে, যা মধ্যম পর্যায়ের গাণিতিক সমস্যা সমাধানের জন্য নির্ধারিত। আর বহুনির্বাচনি প্রশ্নে ৩০ নম্বর বরাদ্দ রয়েছে, যা মৌলিক গাণিতিক জ্ঞান যাচাইয়ের জন্য ব্যবহৃত হবে।
পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা ও নিয়মাবলী
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ প্রকাশিত নীতিমালা অনুযায়ী, ৮ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ এই বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। এই নির্বাচন ৭ম শ্রেণির সব প্রান্তিকের সামষ্টিক মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতে করা হবে।
বৃত্তির ধরন দুইটি ভাগে বিভক্ত – ট্যালেন্টপুল বৃত্তি এবং সাধারণ বৃত্তি। সব ধরনের বৃত্তির ৫০ শতাংশ ছাত্র এবং ৫০ শতাংশ ছাত্রী কোটায় বিভক্ত থাকবে। তবে নির্ধারিত কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে ছাত্রদের বৃত্তি ছাত্রী এবং ছাত্রীদের বৃত্তি ছাত্রদের দ্বারা পূরণ করা যাবে।
শিক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তুতির নির্দেশনা
গণিত বিষয়ে ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীদের তিনটি ভিন্ন ধরনের প্রশ্নের জন্য আলাদা আলাদা প্রস্তুতি নিতে হবে। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য মৌলিক সূত্র ও নিয়মাবলী ভালোভাবে অনুশীলন করতে হবে। সংক্ষিপ্ত উত্তরের প্রশ্নে দ্রুত গণনা এবং সঠিক সমাধান উপস্থাপনের দক্ষতা প্রয়োজন।
সৃজনশীল প্রশ্নে সবচেয়ে বেশি নম্বর থাকায় এই অংশে বিশেষ নজর দিতে হবে। গাণিতিক সমস্যা বিশ্লেষণ এবং ধাপে ধাপে সমাধান উপস্থাপনের অভ্যাস করতে হবে। ৮ম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের সব অধ্যায় থেকে প্রশ্ন আসতে পারে বলে সামগ্রিক প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।
নতুন নীতিমালার গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য
এবারের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার নীতিমালায় কয়েকটি নতুন সংযোজন রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তনকারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যদি কোনো শিক্ষার্থী ছাড়পত্র নিয়ে অন্য বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে থাকেন, তিনিও বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। তবে সেক্ষেত্রে পূর্ববর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মেধাক্রম বিবেচনা করা হবে।
জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি প্রয়োজন অনুযায়ী অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা পুনঃনির্ধারণ করতে পারবেন। এই নমনীয়তা শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মান বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
পরীক্ষার সময়সূচি ও প্রস্তুতির পরামর্শ
২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ থেকে এই নম্বর বণ্টন কার্যকর হবে। পরীক্ষার তারিখ এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি, তবে সাধারণত ডিসেম্বর মাসে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। শিক্ষার্থীদের উচিত এখনই পরিকল্পিত প্রস্তুতি শুরু করা।
গণিত বিষয়ে ১০০ নম্বরের মধ্যে পাস করতে হলে ৩৩ নম্বর পেতে হবে, তবে বৃত্তি পেতে অনেক বেশি নম্বর প্রয়োজন। প্রতিদিন নিয়মিত অনুশীলন এবং দুর্বল বিষয়গুলোতে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এবং এনসিটিবির এই যৌথ উদ্যোগ মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করবে এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
