05 October, 2026

হীরক জয়ন্তীতে বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৬: অধিকার, দক্ষতা ও একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আলোকবর্তিকারা

হীরক জয়ন্তীতে


বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৬: অধিকার, দক্ষতা ও একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আলোকবর্তিকারা

শিক্ষক হলেন মোমবাতির মত, যিনি নিজে জ্বলে অন্যকে পথ দেখান। 

আজ ৫ অক্টোবর, বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৬। ক্যালেন্ডারের পাতায় এই দিনটি যখন ফিরে আসে, তখন একজন পেশাদার শিক্ষক হিসেবে আমার ভেতর এক মিশ্র অনুভূতির জন্ম হয়। একদিকে পরম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হওয়ার আনন্দ, অন্যদিকে আমাদের পেশাগত মর্যাদা, সামাজিক অবস্থান আর অস্তিত্বের সংকটের এক নির্মম বাস্তবতা। এবারের বিশ্ব শিক্ষক দিবসটি মানব ইতিহাসের পাতায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ১৯৬৬ সালের ৫ অক্টোবর প্যারিসে ইউনেস্কো (UNESCO) এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (ILO) বিশেষ আন্তঃসরকার সম্মেলনে শিক্ষকদের অধিকার, দায়িত্ব ও পেশাগত মর্যাদা নিয়ে যে ঐতিহাসিক 'শিক্ষকদের মর্যাদা সংক্রান্ত সুপারিশমালা' গৃহীত হয়েছিল, আজ ২০২৬ সালে এসে তার ৬০ বছর বা হীরক জয়ন্তী পূর্ণ হলো।

ইউনেস্কো নির্ধারিত ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য—"Standing with teachers: 60 years of protecting the profession, advancing its status and shaping our futures" (শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ান: পেশা রক্ষায়, মর্যাদা বৃদ্ধিতে এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গঠনে ৬০ বছর)—আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, রাষ্ট্র ও সমাজকে যদি টিকিয়ে রাখতে হয়, তবে সবার আগে শিক্ষকের পাশে দাঁড়াতে হবে। কিন্তু আজ ৬০ বছর পূর্তির এই ঐতিহাসিক ক্ষণে দাঁড়িয়ে আমাদের প্রশ্ন করতে হবে: আমরা কি আসলেই শিক্ষকদের পাশে দাঁড়াতে পেরেছি, নাকি তাঁদের অধিকার ও নিরাপত্তাকে কেবলই কাগুজে দলিলে বন্দি করে রেখেছি?

বিশ্ব শিক্ষক দিবসের ইতিহাস: অধিকার আদায়ের ঐতিহাসিক পথচলাঃ 

বিশ্ব শিক্ষক দিবসের ইতিহাস মূলত শিক্ষকদের অধিকার আদায়ের এক দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে বিশ্বজুড়ে অনুধাবন করা হয় যে, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষকের কাজের পরিবেশ ও মর্যাদার একটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড থাকা প্রয়োজন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৬৬ সালের ৫ অক্টোবর প্যারিসে ইউনেস্কো এবং আইএলও-র যৌথ বিশেষ সম্মেলনে শিক্ষকদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পেশাগত অধিকারের ওপর ভিত্তি করে একটি ঐতিহাসিক সনদ বাস্তবায়িত হয়। এটিই ইতিহাসে 'শিক্ষকদের মর্যাদা সংক্রান্ত সুপারিশমালা' (Recommendation concerning the Status of Teachers) নামে পরিচিত। 

পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে উচ্চশিক্ষার শিক্ষকদের মর্যাদার বিষয়টিও এই সুপারিশমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৯৯৪ সালে ইউনেস্কোর তৎকালীন মহাপরিচালক ড. ফ্রেডরিক মেওরের উদ্যোগে ৫ অক্টোবরকে আনুষ্ঠানিকভাবে 'বিশ্ব শিক্ষক দিবস' বা 'International Teachers' Day' হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সেই থেকে প্রতি বছর বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে শিক্ষাবিদ, শিক্ষক সংগঠন ও অধিকারকর্মীদের উদ্যোগে এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এটি কেবল শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিন নয়, বরং বিশ্বব্যাপী শিক্ষকদের পেশাগত মান নিশ্চিতকরণ এবং তাঁদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবি পুনরুচ্চারণ করার একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চ। 

জাতি গঠনে শিক্ষকদের দায়িত্ববোধঃ

শুধু জিপিএ নয়, মানুষ গড়ার কারিগর। একটি জাতির উন্নয়ন ও অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি হলো তার শিক্ষাব্যবস্থা, আর সেই ব্যবস্থার মূল প্রাণপুরুষ হলেন শিক্ষক। শিক্ষকেরা কেবল শ্রেণিকক্ষে পাঠ্যপুস্তকের কয়েকটি অধ্যায় মুখস্থ করান না; তাঁরা মূলত একটি দেশের ভবিষ্যৎ নাগরিকদের মনস্তত্ত্ব, মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলেন। জাতি গঠনে একজন শিক্ষকের দায়িত্ববোধ বহুমাত্রিক।

একজন আদর্শ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততা, নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও মানবিকতাবোধের বীজ বুনে দেন। আমরা শুধু জিপিএ-৫ কিংবা গোল্ডেন প্লাস পাওয়ার যান্ত্রিক প্রতিযোগিতা শেখাই না, বরং শিক্ষার্থীদের একজন সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ব্রত গ্রহণ করি। আজকের পরিবর্তনশীল বিশ্বে, যেখানে মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে, সেখানে মানবিক সমাজ টিকিয়ে রাখার গুরুদায়িত্ব শিক্ষকের কাঁধেই ন্যস্ত। সমাজকে অপরাধমুক্ত, বৈষম্যহীন ও পরসহিষ্ণু করে গড়ে তুলতে শিক্ষকের ভূমিকা অনস্বীকার্য। একজন শিক্ষক তাঁর প্রজ্ঞা ও স্নেহ দিয়ে শিক্ষার্থীর সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটান এবং দেশকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে এগিয়ে নিয়ে যান। গুরুদায়িত্ব পালনে শিক্ষকেরা নিরলসভাবে নিজেদের উৎসর্গ করে চলেন।

শিক্ষকদের প্রতি রাষ্ট্রের অবহেলা ও নিরাপত্তাহীনতাঃ 

অন্ধকারের এক নির্মম চিত্র। জাতি গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে আমরা মুখে যত বড় বড় বুলিই আউড়াই না কেন, বাস্তবতার জমিনে শিক্ষকেরা আজ চরম অবহেলা ও নিরাপত্তাহীনতার শিকার। বিশেষ করে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত বৈষম্য শিক্ষকদের জীবনকে বাধ্য করেছে এক কঠিন লড়াইয়ের মুখে ঠেলে দিতে।

আজ ২০২৬ সালে এসেও আমাদের দেশে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষকদের মধ্যে এক আকাশ-পাতাল বৈষম্য বিদ্যমান। দেশের শিক্ষার সিংহভাগ নিশ্চিত করেন বেসরকারি এমপিওভুক্ত এবং নন-এমপিও শিক্ষকেরা। অথচ তাঁদের সুযোগ-সুবিধা অত্যন্ত নগণ্য। নামমাত্র বাড়িভাড়া ও চিকিৎসোভাতা নিয়ে বর্তমান চরম মূল্যস্ফীতির বাজারে একজন শিক্ষককে কীভাবে সংসার চালাতে হয়, তা রাষ্ট্র কখনো গভীরভাবে খতিয়ে দেখে না। অনেক অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক দশকের পর দশক ধরে বিনা বেতনে কিংবা নামমাত্র ভাতার ওপর নির্ভর করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বেসরকারি শিক্ষকদের পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা ও পেনশনের মতো মৌলিক অধিকারগুলো আজও উপেক্ষিত।

আর্থিক অবহেলার পাশাপাশি শিক্ষকেরা আজ চরম সামাজিক ও শারীরিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব, গভর্নিং বডির অযাচিত হস্তক্ষেপ এবং প্রশাসনিক নিপীড়নের শিকার হতে হয় শিক্ষকদের। শ্রেণিকক্ষে বা বিদ্যালয়ের বাইরে শিক্ষকদের ওপর শারীরিক লাঞ্ছনা, জোরপূর্বক পদত্যাগ করানো কিংবা মিথ্যা অপবাদে চাকরিচ্যুত করার মতো জঘন্য ঘটনা আমাদের বারবার লজ্জিত করেছে। যখন একজন শিক্ষককে তাঁর ছাত্র বা স্থানীয় প্রভাবশালীদের হাতে নিগৃহীত হতে হয়, তখন শুধু একজন ব্যক্তি অপদস্থ হন না, বরং গোটা জাতির বিবেক ও শিক্ষাব্যবস্থা ভূলুণ্ঠিত হয়। এই নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের সংস্কৃতির কারণে মেধাবী তরুণেরা আজ শিক্ষকতা পেশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নে রাষ্ট্রের করণীয়ঃ

১৯৬৬ সালের সেই ঐতিহাসিক সনদের ৬০ বছর পূর্তির এই মাহেন্দ্রক্ষণে শিক্ষকদের অবহেলার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। শিক্ষকদের জীবনযাত্রার মান পুনরুদ্ধার করতে হলে রাষ্ট্রকে অতি দ্রুত সুনির্দিষ্ট ও বৈপ্লবিক কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। 

১. শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ ও বৈষম্য দূরীকরণঃ শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ করতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষকদের মধ্যকার সুযোগ-সুবিধার বৈষম্য দূর করে একটি সমতাভিত্তিক কাঠামো তৈরি করা জরুরি।

২. স্বাধীন শিক্ষক পে-স্কেল গঠনঃ মেধাবীদের শিক্ষকতায় আকৃষ্ট করতে এবং তাঁদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে একটি যুগোপযোগী ও সম্মানজনক স্বতন্ত্র 'শিক্ষক পে-স্কেল' চালু করতে হবে, যা বর্তমান বাজারদরের সাথে সংগতিপূর্ণ হবে।

৩. আর্থিক নিরাপত্তা ও অবসর সুবিধাঃ অবসরের পর শিক্ষকেরা যাতে অর্থকষ্টে না পড়েন, সেজন্য পেনশন ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ প্রাপ্তি আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত এবং দ্রুত করতে হবে।

শিক্ষকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা বৃদ্ধিতে সরকার ও সামাজিক সচেতনতাঃ

শিক্ষকদের নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা কেবল রাষ্ট্রীয় আইন দিয়ে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা।

সরকারি উদ্যোগ: শিক্ষকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে কঠোর আইন প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়ন করতে হবে। শিক্ষকদের ওপর যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক হয়রানি বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডিতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে শিক্ষানুরাগীদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

সামাজিক সচেতনতা: সমাজকে বুঝতে হবে যে, শিক্ষকের সম্মানহানি মানে পুরো সমাজের পতন। অভিভাবক ও গণমাধ্যমকে শিক্ষকের সামাজিক মর্যাদা পুনরুজ্জীবিত করতে ভূমিকা রাখতে হবে।

এই প্রসঙ্গে ২০২৬ সালে বাংলাদেশ সরকারের একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ আমাদের বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। পূর্বে প্রতি বছর জাতীয়ভাবে মাত্র ১২ জন শিক্ষককে গুণী শিক্ষক হিসেবে সম্মাননা দেওয়া হতো। কিন্তু বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে সরকার দেশব্যাপী ১০০ জন গুণী শিক্ষককে জাতীয় সম্মাননা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্র শিক্ষকদের অবদানকে বড় পরিসরে স্বীকৃতি দিতে চাইছে।

শিক্ষকদের বিষয় ও আইসিটি জ্ঞানে দক্ষতা বৃদ্ধিঃ

একুশ শতকের শ্রেণিকক্ষ প্রথাগত চক-ডাস্টার বা লেকচার পদ্ধতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বর্তমান যুগে তথ্যের জোগান দেওয়া শিক্ষকের একমাত্র কাজ নয়, কারণ তথ্য এখন ইন্টারনেটে সহজলভ্য। তাই শিক্ষকদের নিজেদের বিষয়ের ওপর গভীর পাণ্ডিত্যের পাশাপাশি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) জ্ঞানে দক্ষ হতে হবে। ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি, সৃজনশীলতা, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম পরিচালনা এবং শিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের নিয়মিত আইসিটি প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। শিক্ষকের বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান ও প্রযুক্তির এই মেলবন্ধন শ্রেণিকক্ষকে শিক্ষার্থীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় ও কার্যকর করে তুলবে। 

একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিঃ

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিশ্ববাজারের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা। একুশ শতকের চ্যালেঞ্জগুলো হলো—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আগ্রাসন, জলবায়ু পরিবর্তন, এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল কর্মসংস্থান। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষকদের গতানুগতিক মুখস্থ বিদ্যার বাইরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে 'Critical Thinking' বা জটিল চিন্তন দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা, সৃজনশীলতা এবং 'Communication Skills' বা যোগাযোগ দক্ষতা গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষকেরা যদি নিজেরা আধুনিক জ্ঞানে সমৃদ্ধ না হন, তবে তাঁরা আগামী প্রজন্মকে বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন না। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির এই বিশাল দায়িত্ব সফলভাবে পালন করতে হলে শিক্ষকদের যোগ্য নেতৃত্ব দিতে হবে। 

উপসংহারঃ 

শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো আলোর বিস্তার ঘটানো। আর সেই আলো যিনি বহন করেন, তাঁকে অন্ধকারে বা ভয়ে রেখে কখনো একটি আলোকিত জাতি গঠন সম্ভব নয়। বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৬-এর এই ঐতিহাসিক হীরক জয়ন্তীতে আমাদের প্রতিজ্ঞা হতে হবে—আমরা শিক্ষকদের মর্যাদা কেবল মুখে কিংবা বছরের একটি দিনে সীমাবদ্ধ রাখব না। শিক্ষকদের অধিকার রক্ষা, জীবনমান উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজ তাঁদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করবে। একজন শিক্ষক হিসেবে আমি স্বপ্ন দেখি এমন এক বাংলাদেশের, যেখানে শিক্ষকেরা মাথা উঁচু করে বাঁচবেন, মেধা ও মননের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি পাবেন এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি বৈষম্যহীন, আধুনিক ও মানবিক সমাজে বড় হবে। বিশ্বের সকল আলোকবর্তিকাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও বিশ্ব শিক্ষক দিবসের রক্তিম শুভেচ্ছা।

30 March, 2026

রচনা : ছাত্র জীবন

 

ছাত্র জীবন রচনা : শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতিকে আরও সহজ ও কার্যকর করতে নিয়মিত মানসম্মত প্রবন্ধ রচনা প্রকাশ করা হয়। আজকের প্রবন্ধের বিষয় ‘ছাত্রজীবন’, যা মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ভিত্তি গঠনের সময় হিসেবে বিবেচিত। এই সময়েই জ্ঞান অর্জন, নৈতিকতা গঠন এবং ভবিষ্যৎ জীবনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়।

একটি সুশৃঙ্খল ও পরিশ্রমী ছাত্রজীবনই সফল জীবনের চাবিকাঠি। তাই পরীক্ষার জন্য এই বিষয়টি ভালোভাবে অনুশীলন করা অত্যন্ত জরুরি। এই প্রবন্ধটি শিক্ষার্থীদের সহজভাবে বিষয়টি বুঝতে এবং পরীক্ষায় ভালো নম্বর অর্জনে সহায়তা করবে।

     ছাত্র জীবন 

                                                   অথবা, ছাত্রজীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য

সূচনা: বিদ্যাশিক্ষার জন্য শিশুকাল থেকে শুরু করে যে সময়টুকু আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অতিবাহিত করি তাকেই ছাত্রজীবন বলে। ছাত্রজীবন হচ্ছে জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময়। ভবিষ্যৎ জীবনের সফলতার জন্য এ সময় থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হয়। তা না হলে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছানো যায় না। জীবনে প্রকৃত সফলতা লাভ করতে হলে ছাত্রজীবনকে গুরুত্ব প্রদান করা জরুরি।

ছাত্রজীবনের গুরুত্ব

ভবিষ্যৎ জীবনের সুখ, সমৃদ্ধি ও উন্নতির বীজ ছাত্রজীবনেই বপন করতে হয়। ছাত্রজীবনের সুশিক্ষাই ভবিষ্যৎ জীবনের পাথেয়। আমাদের জীবনে আত্মপ্রতিষ্ঠা ছাত্রজীবনের সাধনার ওপর সম্পূর্ণরূপে নির্ভরশীল।

ছাত্রজীবনের মূল উদ্দেশ্য

সকল ক্ষেত্রেই মানুষ একটি লক্ষ্য নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যায়। তেমনি ছাত্রজীবনেরও একটি লক্ষ্য থাকা প্রয়োজন। শুধুমাত্র পাস করে সনদ অর্জনই যেমন ছাত্রজীবনের একমাত্র লক্ষ্য নয়, তেমনি পরীক্ষায় ভা

লো ফলাফল করলেই ছাত্রজীবনের উদ্দেশ্য অর্জিত হয় না। ছাত্রজীবনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জ্ঞানার্জন। জ্ঞানার্জনের মধ্য দিয়ে মানুষের মনের সকল বন্ধ দুয়ার খুলে যায়। চিত্তের সংকীর্ণতা দূর হয়ে এক উদারনৈতিক চিন্তা-চেতনার অধিকারী হয় সে। আর তখনই সে নিজেকে মহৎ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। নিজেকে ভদ্র, সেবাপরায়ণ, সেবাব্রতী, আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার সাধনাও ছাত্রজীবনের দায়িত্বকর্তব্যের মধ্যে পড়ে। ছাত্রজীবনের মূল লক্ষ্য অর্জনের জন্য কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের প্রয়োজন।

ছাত্রজীবনের কর্তব্য

অধ্যয়ন করাই ছাত্রজীবনের প্রথম ও প্রধান তপস্যা। ছাত্রসমাজই দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ কর্ণধার। এজন্য ছাত্রদের অন্যতম কাজ হলো শিক্ষা-দীক্ষায় সমৃদ্ধ ও আদর্শ জীবন গঠন করা। ছাত্রসমাজকে জ্ঞান-বিজ্ঞানে উন্নত এবং শারীরিক শক্তিতে ও মানসিক দক্ষতায় বলীয়ান হতে হবে। যোগ্যতাসম্পন্ন ও চরিত্রবান ছাত্রদের জাতি গঠনে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

লক্ষ্য নির্ধারণ

লক্ষ্যহীন জীবন হালবিহীন জাহাজের মতো। ছাত্রজীবনেই জীবনের লক্ষ্য স্থির করতে হবে এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে। লক্ষ্য নির্ধারণ না করলে জীবন উদ্দেশ্যহীন হয়ে যায়। তাই ছাত্রজীবনেই লক্ষ্য নির্ধারণ করে সে অনুযায়ী কাজ করা উচিত।

চরিত্র গঠন

চরিত্র মানবজীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। ছাত্রজীবনই চরিত্র গঠনের উপযুক্ত সময়। ছাত্রদের চরিত্র গঠনে বিশেষ মনোযোগী হতে হবে। সৎ পথে চলা, সত্য কথা বলা, লোভ-লালসা থেকে বিরত থাকা, খারাপ কাজ ও কুসঙ্গ থেকে দূরে থাকা, ছোটদের স্নেহ করা ও বড়দের শ্রদ্ধা করা ইত্যাদি ভালো গুণগুলো ছাত্রজীবনেই চর্চা করতে হবে।

খেলাধুলা ও স্বাস্থ্য গঠন

পড়াশোনার পাশাপাশি শরীর গঠনের প্রতিও ছাত্রদের মনোযোগী হতে হবে। স্বাস্থ্য মানবজীবনের অমূল্য সম্পদ। সুস্থ শরীরেই সুস্থ মনের বাস। তাই ছাত্রজীবনে নিয়মিত খেলাধুলার মাধ্যমে স্বাস্থ্য গঠনে সচেষ্ট হতে হবে।

পিতামাতা ও গুরুজনদের প্রতি কর্তব্য

পিতামাতা ও গুরুজনদের যথার্থ সম্মান প্রদর্শন করা ছাত্রসমাজের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মনোভাব তাদের নৈতিক দিক থেকে আদর্শবান করে তোলে। গুরুজন যা নিষেধ করেন তা না করাও তাদের কর্তব্য। বড়দের মনে কষ্ট হয় এমন কাজ থেকে তাদের বিরত থাকতে হবে। কেননা বড়দের আশীর্বাদ তাদের চলার পথের পাথেয়। পিতামাতা যেন তাদের কোনো কাজে কষ্ট না পায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। পিতামাতার আশীর্বাদই একজন সন্তানের সবচেয়ে বড় সম্পদ। পিতামাতার আশীর্বাদ সন্তানকে উৎকর্ষের শীর্ষে পৌঁছে দেয়। তাই তাদের এ সকল বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।

সৃজনশীল কর্মকাণ্ড অংশগ্রহণ

ছাত্রদের মানসিক বিকাশে সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এক্ষেত্রে যার যে কাজ ভালো লাগে সে কাজে মনোযোগ দিতে হবে। বিতর্কচর্চা, আবৃত্তিচর্চা, বই পড়া, ভ্রমণ, ছবি তোলা, বিজ্ঞানচর্চা, লেখালেখি ইত্যাদির মাধ্যমে নিজের বুদ্ধিবৃত্তিকে আরও তীক্ষ্ন করে তোলা সম্ভব।

সামাজিক দায়িত্ব

সমাজের সবচেয়ে তরুণ ও সচেতন অংশ হচ্ছে ছাত্রসমাজ। পুরাতনকে, মিথ্যাকে, জরা-জীর্ণতাকে মুছে ফেলে, প্রাচীন সংস্কার ও গোঁড়ামিকে ঝেড়ে ফেলে একটি শোষণমুক্ত সুন্দর সমাজ গড়ার দায়িত্ব আজকের ছাত্রসমাজের। ছাত্ররা তাদের সুন্দর মন এবং সুকুমার বৃত্তির অভিনব প্রকাশের সাহায্যে সমাজের পঙ্কিলতা দূর করতে পারে। বিশ্বমানবতা এবং মানবিকতার বিজয় পতাকা ছাত্রদেরই হাতে। তারা তা সমাজের বুকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। চির বঞ্চিত, বুভুক্ষু অনাহার ক্লিষ্ট মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তারা শোনাতে পারে সান্ত্বনার বাণী। আশাহীন বুকে জাগাতে পারে আশা। ভাষাহীন বুকে দান করতে পারে প্রাণের স্পন্দন। সভা-সমিতি, সংঘ, স্কাউটিং এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবামূলক ফোরামের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা এ দায়িত্ব পালন করে থাকে।

উপসংহার

ছাত্রজীবনই জীবনের সবেচেয় গুরুত্বপূর্ণ সময়। তাই এ সময় থেকেই ছাত্রদের নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠতে হবে। ছাত্ররাই ভবিষ্যতে দেশের সকল ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবে। তাই নিজেদের উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে পারলেই দেশ ও জাতির জন্য তারা গৌরব বয়ে আনতে সক্ষম হবে।

এসএসসি বিজ্ঞান সাজেশন ২০২৬

 নবম ও দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ে চৌদ্দটি অধ্যায় থাকলেও শর্ট সিলেবাসের আওতায় রয়েছে মাত্র ৭টি অধ্যায়। অর্থাৎ এসএসসি ২০২৫ পরীক্ষায় এ ৭টি অধ্যায় থেকেই প্রশ্ন করা হবে। তাই এ ৭টি অধ্যায়ের ওপর প্রস্তুতি নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তোমাদের যে ৭টি অধ্যায় থেকে বিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্ন করা হবে,

নিচে এসকল অধ্যায় থেকে ২টি করে নমুনা সৃজনশীল প্রশ্ন দেওয়া হল।

  • ১. নিচের ছকটি লক্ষ কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও: 

চার্ট-A – মাছ, মুরগি, ডাল
চার্ট-B – আলু, শাকসবজি, দুধ
চার্ট-C – মাখন, বাদাম, ডিমের কুসুম

ক. টক্সিন কাকে বলে?
খ. চিকেন রোল স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কেন?
গ. প্রাণিদেহ গঠনে চার্ট-A এর গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।
ঘ. চার্ট-B এবং C এর খাদ্যের উৎসসমূহ তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।

২. নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই উদ্দীপকটি পিডিএফ উত্তরমালায় দেখো।

ক. ETP কী?
খ. পানির মানদ- বলতে কী বুঝ?
গ. উদ্দীপকে উৎপাদিত পদার্থটির ঘনত্ব কীভাবে তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উৎপাদিত পদার্থটি নিরপেক্ষ হলেও এর কিছু নিজস্ব ধর্ম আছে- উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

৩. নিচের ছকটি লক্ষ্য কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
P- রক্তরস
Q- রক্তকণিকা
R- রক্তের গ্রুপ

ক. সিরাম কী?
খ. উচ্চ রক্তচাপ বলতে কী বোঝায়?
গ. উদ্দীপকে নির্দেশিত R এর দাতা ও গ্রহীতার মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন কর।
ঘ. উদ্দীপকের P ও Q উভয়ে একই কলার অন্তর্ভুক্ত হলেও এদের কাজ ভিন্ন- বিশ্লেষণ কর।

৪. মারিয়া প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। সে চশমা ব্যবহার করে। সে বলে তার চশমার ক্ষমতা -0.25D.

ক. লেন্স কী?
খ. চশমার ক্ষমতা 2D বলতে কী বোঝ?
গ. মারিয়ার চশমার ব্যবহৃত লেন্স কোন প্রকৃতির? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
ঘ. মারিয়ার চোখে যে ধরনের ত্রুটি দেখা দিয়েছে তার কারণ ও প্রতিকার ব্যবস্থা বিশ্লেষণ কর।

৫. দৃশ্যকল্প-১: সজল এমন একটি কারখানায় কাজ করে যেখানে কোনো নিকৃষ্ট ধাতুর উপর সোনা রুপার মতো মূল্যবান ধাতুর প্রলেপ দেওয়া হয়।

দৃশ্যকল্প-২ : সুমাইয়া রাতে পড়তে বসলে লক্ষ করে তার এলাকায় প্রায়ই কিছু সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। তাছাড়া সে আরো লক্ষ করল, তাদের পাশের বাড়ির লোকেরা মেইন লাইন থেকে তার টেনে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, যার হিসাব মিটারে উঠে না।

ক. তড়িৎ ক্ষমতা কাকে বলে?
খ. বৈদ্যুতিক মিস্ত্রিরা পায়ে শুষ্ক জুতা পরিধান করে কেন? ব্যাখ্যা কর।
গ. সজলের কারখানায় কিভাবে প্রলেপ দেওয়ার কাজটি করা হয়? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. সুমাইয়ার লক্ষ করা প্রক্রিয়া দুটি কী আমাদের সামাজিক জীবনকে প্রভাবিত করে? বিশ্লেষণ কর।

৬. নিচের চিত্রটি লক্ষ্য কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই উদ্দীপকটি পিডিএফ উত্তরমালায় দেখো।

ক. টেস্টিং সল্ট কাকে বলে?
খ. প্রসাধন সামগ্রীতে pHএর মান নির্দিষ্ট থাকা গুরুত্বপূর্ণ কেন?
গ. ভোলতা ফুল ফুটালে সৃষ্ট যন্ত্রণা নিবারণে ১নং চিত্রের বিকারে অবস্থিত তরল পদার্থযুক্ত মলম কার্যকর কেন? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. কৃষিক্ষেত্রে ১ ও ২নং চিত্রে বিকারে অবস্থিত পদার্থের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

৭. নিচের চিত্রটি লক্ষ্য কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই উদ্দীপকটি পিডিএফ উত্তরমালায় দেখো।

ক. Top Soil কী?
খ. জৈব পদার্থকে মাটির জীবন বলা হয় কেন?
গ. উদ্দীপকের ‘A’ বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা কর।
ঘ. বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ‘B’ এর প্রভাব বিশ্লেষণ কর।

৮. নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
A- পলিথিন, রাবার, প্লাস্টিক
B- পশম, সুতা

ক. পলিমার কী?
খ. থার্মোপ্লাস্টিক কী? ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপক A এর উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপক A ও B এর উপাদানগুলোর মধ্যে কোনগুলো। পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ? তুলনামূলক আলোচনা করে। তোমার মতামত দাও।

৯. আমরা যে খাবার খাই পুষ্টিগুণ অনুযায়ী তার তিনটি মুখ্য উপাদান এবং তিনটি সহায়ক উপাদান আছে। যেসকল খাদ্যের তাপ উৎপন্ন করার বৈশিষ্ট্য আছে তার প্রধান উপাদান আর অন্যগুলোর দেহের ভারসাম্য ও সমন্বয়ের বৈশিষ্ট্য আছে।

ক. পুষ্টি কী?
খ. সুষম খাদ্য বলতে কী বুঝায়?
গ. উদ্দীপকের ১ম শ্রেণির খাদ্য বর্ণনা কর।
ঘ. উদ্দীপকে উল্লেখিত দুই ধরনের খাদ্যের মধ্যে কার্যিক তুলনা কর।

১০. নাতাশার রক্তে শ্বেত কণিকার পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে। হঠাৎ আঘাত প্রাপ্ত হওয়ায় সে লক্ষ্য করল যে তার কাটা স্থানের রক্ত সহজে জমাট বাঁধছে না। তার রক্তের গ্রুপ O+।

ক. Rh ফ্যাক্টর কি?
খ. নাতাশাকে ইউনিভার্সেল ব্লাড ডোনার বলা হবে কেন ব্যাখ্যা কর।
গ. নাতাশার রক্তে বেড়ে যাওয়া কণিকাটির জন্য কি কি রোগ হতে পারে ব্যাখ্যা কর।
ঘ. নাতাশার কাটা স্থানে ঐ অবস্থার জন্য একটি রক্ত কোষ জড়িত- যুক্তিসহ বিশ্লেষণ কর।

১১. নিচের বিক্রিয়াটি লক্ষ করো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

A + B → “N” + H2O

ক. “শেভিং ফোম” এর সংকেত লেখ।
খ. পাকস্থলীতে হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCI) প্রয়োজন পড়ে কেন?
গ. উদ্দীপকের বিক্রিয়াটি আমাদের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে- ব্যাখ্যা কর।
ঘ. কৃষিক্ষেত্রে এবং শিল্পকারখানায় ‘N’ ধরনের যৌগের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

14 September, 2025

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫: গণিত বিষয়ের প্রশ্নের ধরন ও নম্বর বণ্টন প্রকাশ।

 


জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ এর বিষয়ভিত্তিক প্রশ্নপত্রের কাঠামো ও নম্বর বণ্টনের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এই ঘোষণায় গণিত বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং পরীক্ষার্থীদের জন্য স্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

২০২৫ সালের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার মূল কাঠামো

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত এই বৃত্তি পরীক্ষায় মোট ৪টি বিষয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে ১০০ নম্বর করে পরীক্ষা হবে। অন্যদিকে বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে ৫০ নম্বর করে পরীক্ষা নেওয়া হবে। এভাবে সর্বমোট ৪০০ নম্বরে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

প্রতিটি বিষয়ের পরীক্ষার জন্য ৩ ঘন্টা সময় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় প্রদান করা হবে।

গণিত বিষয়ের বিশেষ নম্বর বিন্যাস

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ এ গণিত বিষয়ের প্রশ্নপত্র তিনটি ভিন্ন ধরনের প্রশ্নের সমন্বয়ে গঠিত হবে। এই বিন্যাসটি শিক্ষার্থীদের সার্বিক দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য বিশেষভাবে পরিকল্পিত।

সৃজনশীল প্রশ্নের জন্য ৫০ নম্বর বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই ধরনের প্রশ্নে শিক্ষার্থীদের চিন্তাভাবনা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা পরীক্ষা করা হবে। সংক্ষিপ্ত উত্তরের প্রশ্নে ২০ নম্বর থাকবে, যা মধ্যম পর্যায়ের গাণিতিক সমস্যা সমাধানের জন্য নির্ধারিত। আর বহুনির্বাচনি প্রশ্নে ৩০ নম্বর বরাদ্দ রয়েছে, যা মৌলিক গাণিতিক জ্ঞান যাচাইয়ের জন্য ব্যবহৃত হবে।

পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা ও নিয়মাবলী

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ প্রকাশিত নীতিমালা অনুযায়ী, ৮ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ এই বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। এই নির্বাচন ৭ম শ্রেণির সব প্রান্তিকের সামষ্টিক মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতে করা হবে।

বৃত্তির ধরন দুইটি ভাগে বিভক্ত – ট্যালেন্টপুল বৃত্তি এবং সাধারণ বৃত্তি। সব ধরনের বৃত্তির ৫০ শতাংশ ছাত্র এবং ৫০ শতাংশ ছাত্রী কোটায় বিভক্ত থাকবে। তবে নির্ধারিত কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে ছাত্রদের বৃত্তি ছাত্রী এবং ছাত্রীদের বৃত্তি ছাত্রদের দ্বারা পূরণ করা যাবে।

শিক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তুতির নির্দেশনা

গণিত বিষয়ে ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীদের তিনটি ভিন্ন ধরনের প্রশ্নের জন্য আলাদা আলাদা প্রস্তুতি নিতে হবে। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য মৌলিক সূত্র ও নিয়মাবলী ভালোভাবে অনুশীলন করতে হবে। সংক্ষিপ্ত উত্তরের প্রশ্নে দ্রুত গণনা এবং সঠিক সমাধান উপস্থাপনের দক্ষতা প্রয়োজন।

সৃজনশীল প্রশ্নে সবচেয়ে বেশি নম্বর থাকায় এই অংশে বিশেষ নজর দিতে হবে। গাণিতিক সমস্যা বিশ্লেষণ এবং ধাপে ধাপে সমাধান উপস্থাপনের অভ্যাস করতে হবে। ৮ম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের সব অধ্যায় থেকে প্রশ্ন আসতে পারে বলে সামগ্রিক প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।

নতুন নীতিমালার গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য

এবারের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার নীতিমালায় কয়েকটি নতুন সংযোজন রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তনকারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যদি কোনো শিক্ষার্থী ছাড়পত্র নিয়ে অন্য বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে থাকেন, তিনিও বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। তবে সেক্ষেত্রে পূর্ববর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মেধাক্রম বিবেচনা করা হবে।

জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি প্রয়োজন অনুযায়ী অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা পুনঃনির্ধারণ করতে পারবেন। এই নমনীয়তা শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মান বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

পরীক্ষার সময়সূচি ও প্রস্তুতির পরামর্শ

২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ থেকে এই নম্বর বণ্টন কার্যকর হবে। পরীক্ষার তারিখ এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি, তবে সাধারণত ডিসেম্বর মাসে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। শিক্ষার্থীদের উচিত এখনই পরিকল্পিত প্রস্তুতি শুরু করা।

গণিত বিষয়ে ১০০ নম্বরের মধ্যে পাস করতে হলে ৩৩ নম্বর পেতে হবে, তবে বৃত্তি পেতে অনেক বেশি নম্বর প্রয়োজন। প্রতিদিন নিয়মিত অনুশীলন এবং দুর্বল বিষয়গুলোতে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এবং এনসিটিবির এই যৌথ উদ্যোগ মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করবে এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



23 August, 2025

শিক্ষক নিয়োগে নেওয়া হবে না নিবন্ধন পরীক্ষা


 বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে আর নেওয়া হবে না শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা। পরিবর্তে সরাসরি নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের এই পরিবর্তন বাস্তবায়নের জন্য একটি নতুন বিধি প্রণয়ন করা হয়েছে, যা বর্তমানে অনুমোদনের প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অনুমোদন মিললে শিগগিরই এ বিষয়ে পরিপত্র জারি করা হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন বিধিতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে শূন্য পদের দ্বিগুণসংখ্যক প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষায় (ভাইভা) অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি শূন্য পদ ৫০ হাজার হয়, তাহলে ভাইভায় অংশ নেবেন এক লাখ প্রার্থী। চূড়ান্ত ফলও দেওয়া হবে শূন্য পদের ভিত্তিতে। মোট শূন্য পদের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হবে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগে প্রার্থীদের বয়স গণনা করা হবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ অনুযায়ী। বয়স নির্ধারণে আলাদা কোনো তারিখ ধরা হবে না।

এ কারণে, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিনে যদি কোনো প্রার্থীর বয়স ৩৪ বছর ১১ মাস হয়, তিনিও আবেদন করে চাকরির সুপারিশ পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

এদিকে বুধবার (১৩ আগস্ট) ১৯তম শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি নিয়ে আলোচনা করতে সভা ডেকেছিল বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। সংস্থাটির চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম এ সভায় সভাপতিত্ব করেন।

সভার বিষয়ে জানতে চাইলে এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘১৯তম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে আলোচনা করতে সভা ডাকা হয়েছিল। এ নিয়োগের সিলেবাস, পরীক্ষা পদ্ধতিসহ অন্যান্য বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ কমিটির সুপারিশের আলোকে সব চূড়ান্ত করা হবে।

19 February, 2024

লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জে সম্মিলিত স্মার্ট স্কুলের আয়োজনে কুইজ উৎসব- 2024 উৎযাপন

 গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ খ্রি, শনিবার দিনব্যাপী কালীগঞ্জ করিম উদ্দিন পাবলিক পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে সম্মিলিত স্মার্ট স্কুল” লালমনিরহাটের আয়োজনে এবং ঢাকা ইউনিভার্সিটি কুইজ সোসাইটি এর সার্বিক সহযোগিতায় “শিক্ষাঞ্চল কালীগঞ্জ কুইজ উৎসব- ২০২৪” অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধান অতিথি কালীগঞ্জ উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) জনাব ইশরাত জাহান ছনি এ অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন ঘোষনা করেন। সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ করিম উদ্দিন পাবলিক পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব খুরশীদুজ্জামান আহমেদ ।
দিনব্যপী লালমনিরহাট জেলার ২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩০০ জন মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী এই উৎসবে দলীয় ও একক কুইজ পর্বে সরাসরি অংশগ্রহণ করে ।
ঢাকা ইউনিভার্সিটি কুইজ সোসাইটির জেনারেল সেক্রেটারি শোয়াইব রহমান হেড অফ কুইজ উইং এন্ড ট্রেনিং সেক্রেটারি সাদমান মুজতবা রাফিদ, পাবলিক রিলেশন সেক্রেটারি করিম আল জাহিন, কমিউনিকেশন উইং সদস্য, মোঃ হাসান জুবায়ের শুরুতেই সকল অংশগ্রহণকারীকে কুইজ এর আদ্যোপান্ত সম্পর্কে সম্মক ধারণা দেন ও শিক্ষার্থীদের নানা প্রশ্নের উত্তর দিয়ে বিষয়টিকে সহজ ও সুন্দর করে তোলেন।
এরপর দলীয় ও একক পর্বের লিখিত পরীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে ৬টি দল স্টেজ পর্বের জন্য নির্বাচিত হয় । স্টেজ পর্বে কালীগঞ্জ করিম উদ্দিন পাবলিক পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ২টি দল, তুষভান্ডার নছর উদ্দিন সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ২টি দল ছাড়াও তিস্তা খলিলুর রহমান খাদেম উচ্চ বিদ্যালয় ও গিয়াস উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের ১টি করে দল সুযোগ পায়। জমজমাট ও উত্তেজনামূলক বার্জার রাউন্ডে ৪০টি প্রশ্নের উত্তরে চ্যাম্পিয়ন হয় কালীগঞ্জ করিম উদ্দিন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মোঃ রাকিবুল ইসলাম রাকিব, ইয়াস মোর্শেদ অমি ও ফাতিন ইসতিয়াক এর দল “কেইউপিয়ান জাদুকর”, ১ম রানার আপ হয় তিস্তা খলিলুর রহমান খাদেম উচ্চ বিদ্যালয়ের মোঃ আব্দুর রউফ, মেহেদি হাসান ও মোঃ মিহাদ ইসলাম এর দল “প্লাটিনাম” ২য় রানার আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে কালীগঞ্জ করিম উদ্দিন পাবলিক পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের করিম আল শাফিন, নুর আলম সামিন ও এস এম সাফায়েতুল কবির এর দল ড্রিমার্স। কুইজ মাস্টার হিসেবে স্টেজ রাউন্ড পরিচালনা করেন সাদমান মুজতবা রাফিদ।
একক কুইজ প্রতিযোগিতায় সর্বাধিক নম্বর পেয়ে তুষভান্ডার নছর উদ্দিন সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের সাদিয়া তাসনিম প্রমি ১ম স্থান, কালীগঞ্জ করিম উদ্দিন পাবলিক পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের এস এম সাফায়েতুল কবির ২য়, তিস্তা খলিলুর রহমান খাদেম উচ্চ বিদ্যালয়ের মোঃ মিহাদ ইসলাম ৩য়, তুষভান্ডার নছর উদ্দিন সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের কুবরাতুল জামান ৪র্থ, তিস্তা খলিলুর রহমান খাদেম উচ্চ বিদ্যালয়ের মোঃ আব্দুর রউফ ৫ম, তুষভান্ডার রমনী মোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের জুনায়েদ মুরাদ ৬ষ্ঠ, তুষভান্ডার নছর উদ্দিন সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের তাহরিমা আক্তার তিশা ৭ম, দেবপর্না রায় দ্যুতি ৮ম, রাফিয়া ইসরাত ৯ম ও কালীগঞ্জ করিম উদ্দিন পাবলিক পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ওয়াসিফ ১০ম স্থান লাভ করে।

31 January, 2023

মাইক্রোসফট ইনোভেটিভ এডুকেটর এক্সপার্ট বাংলাদেশ কমিউনিটি মিটআপ ২০২৩ অনুষ্ঠিত


মাইক্রোসফট ইনোভেটিভ এডুকেটর এক্সপার্ট বাংলাদেশ কমিউনিটির আয়োজনে দিনব্যাপী মাইক্রোসফট কর্তৃক নির্বাচিত ২০১৫-২০২৩ সাল পর্যন্ত ৬৩ জন ব্যক্তিকে আন্তর্জাতিক মাইক্রোসফট উদ্ভাবনী শিক্ষাবিদ বিশেষজ্ঞদের অ্যাওয়ার্ড ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।

গত ২৮ জানুয়ারি শনিবার দিনব্যাপী রাজধানীর মহাখালী রেলগেট এস.কে.এস শপিং মল তৃতীয় তলায় আমান ফুড ভেলি বুফে রেঁস্তরায় এন্ড পার্টি সেন্টারে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক (গ্রেট-১) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. বিকর্ণ কুমার ঘোষ। শিক্ষক জাহানারা হাসান এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ মাইক্রোসফটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: ইউসুপ ফারুক।

এসময় মাইক্রোসফট ইনোভেটিভ এডুকেটর শিক্ষাবিদ বিভাগের পক্ষে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন আন্তর্জাতিক বিশেষ অতিথি স্ট্রাটেজি প্রধান সোনজা ডেলাফোস, এডুকেশন প্রোগ্রাম, মাইক্রোসফট, অ্যানি টেলর, এশিয়া প্যাসিফিক, এডুকেশন অ্যাডভাইজার, মাইক্রোসফট, এবং কিং সং লি এডুকিনিট মাইক্রোসফট পার্টনার এশিয়া প্যাসিফিক প্রোগ্রাম কো- অর্ডিনেটর মাইক্রোসফট।



এছাড়া অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মাইক্রোসফট উদ্ভাবনী শিক্ষাবিদ বিশেষজ্ঞ হিসাবে বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত ৬৩ জন রির্সোস পারসোন অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করেছেন জোতিশ চন্দ্র রায়, সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মো: আব্দুস ছালাম এবং মাওলানা নাজমুল হক।



মাইক্রোসফট ইনোভেটিভ এডুকেটর এক্সপার্ট বাংলাদেশ কমিউনিটি কান্ট্রি ইভেন্ট ম্যানেজার মোঃ ওহিদুজ্জামান মুন্সী বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুসারে ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ লক্ষ্যমাত্রা গড়ার প্রত্যয়ে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মাইক্রোসফট উদ্ভাবনী শিক্ষাবিদ বিশেষজ্ঞ হিসাবে নির্বাচিত সকল শিক্ষক। আন্তর্জাতিক শিক্ষা কর্মসূচির এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে মাইক্রোসফট ইনোভেটিভ এডুকেটর এক্সপার্ট বাংলাদেশ কমিউনিটি নিরলস ভাবে কাজ করে যাবেন।

Popular Posts